Awareness

পুষুন স্ট্রিট ডগসদেরও

WhatsApp Image 2019-05-11 at 22.30.27 (1)

 

নাহ! কোন ব্রিড ডগ নয়। একদম খাঁটি স্ট্রিট ডগ। সেইদিন কলেজ প্রোজেক্ট-এর সূত্রে যখন ডগ লাভার্সদের সাক্ষাৎকার নিতে বেরিয়েছি, ফুলবাগান থানার কাছে, পথ চলতি একজন বললেন,’ থানার ভিতরে যাও, একটা পোষা স্ট্রিট ডগ আছে।’ থানার ভিতরে যাব! মনটা কেমন যেন কিন্তু-কিন্তু করছিল। তবু একবার উঁকি মেরে দেখি, এক তাগড়াই চেহারার কালু কুতু বসে আছে, জুলু-জুলু চোখে আমাদের মিটিমিটি দেখছে। ছুটে চলে গেলাম। যথারীতি আমার হাতটা শুঁকেই একলাফে কাঁধে উঠে দাঁড়ালো। যাই হোক লম্ফঝম্পের পালা শেষই হচ্ছিল না। বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা এক-দুজন পুলিশকাকু বললেন ‘ওর নাম কাটাপ্পা।’ শুনে বেশ লাগলো। ভাবলাম কাটাপ্পার মালিকের একটা ছোট করে সাক্ষাৎকার নিলেই হয়। কথা বলে জানতে পারলাম কাটাপ্পাকে থানার বড়োবাবু পুষেছেন। অন্যেরা আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন,’ ভিতরে যাও, বড়োবাবু খুব ভালো।’ সিনেমা ছাড়া থানার ভিতর কেমন দেখতে হয় কোনদিন দেখিনি! আমি আর বর্ষা একবার মুখ চাওয়া-চাওই করলাম। তারপর আমি অকপটে বললাম,’আমাদের দুজনকে একটু ভিতরে নিয়ে যাবেন?’

ফুলবাগান থানার অফিসার-ইনচার্জ, পিয়ূষ কুণ্ডুর সাথে বেশ কিছুক্ষণ কথা হল। আমরা ইন্টারভিউও নিলাম। কথা বলে জানতে পারলাম উনিও একজন ডগ লাভার। উনি যেই থানাতেই কর্মরত থাকেন, সেখানেই একটি করে স্ট্রিট ডগ রাখেন। স্যার আগে নারকেলডাঙ্গা থানায় কর্মরত ছিলেন, সেখানে ‘চুলবুল’ নামে তাঁর এক স্ট্রিট ডগ ছিল। তিনি বললেন, ‘ওখানে গিয়ে চুলবুলের খোঁজ করলেই ওকে দেখতে পাবে।’ সিনেমার বিশেষ চরিত্র গুলোর নামে তিনি তাঁর পোষ্যদের নাম দেন।

সাক্ষাৎকারে, একটা প্রশ্ন করেছিলাম, ‘সাধারণত পুলিশদের ব্রিড ডগস-ই থাকে। সেক্ষেত্রে আপনি স্ট্রিট ডগ রেখেছেন, এর কি কোন আলাদা কারণ আছে?’

উনি উত্তর দিলেন,’সকলেরই একটা ভুল ধারণা কাজ করে।আমার মতে, ব্রিড ডগসদের থেকে স্ট্রিট ডগসদের ক্যাপাসিটি অনেক বেশি। এদের অনেক বেশি স্ট্রাগল করতে হয়। কোন জিনিস-ই এদের সহজে মেলে না। তাই আমার মনে হয়, যে কেয়ার ব্রিড ডগসদের সবাই দেয়, তার  ১৫%-২০% যদি একটা স্ট্রিট ডগকে দেওয়া যায় তাহলে সে যথেষ্ট হৃষ্টপুষ্ট, তেজি ও অ্যাক্টিভ থাকবে। আমার কুকুরকে দেখেছ? গায়ে হাত দিয়ে দেখবে, চকচক করছে। তাই বলে আমি কোন আর্গুমেন্টে যাচ্ছি না। যদি ব্রিড ডগদের মতো স্ট্রিট ডগদের রাখা যায় বা কেয়ার করা যায়, ওরা কোন অংশে কম যাবে না।’

আমি একজন পশুপ্রেমী হিসাবে বলছি, প্রথমত, প্লিজ স্ট্রিট ডগসদের দায়িত্ব নিন। ওরা অনেক বেশি অসহায়। দ্বিতীয়ত, যে প্রাণীর-ই দায়িত্ব নিয়েছেন, বা নেবেন, হঠাৎ করে কখনও ওদের রাস্তায়, বা অন্য কোথায়ও অসহায় অবস্থায় ছেড়ে দিয়ে আসবেন না এটা আমার আন্তরিক আবেদন। একটি কুকুর বা বিড়াল যখন আপনার বাড়িতে থাকে তখন সে আপনার পরিবারটাকেই তার পরিবার মনে করে। তাই মানুষ হওয়ার দায়িত্বে, ওদেরকে শেষ দিন পর্যন্ত সাহায্য করা ও পাশে থাকা আপনার এবং আপনাদেরই কর্তব্য।

Please adopt street dogs. They are helpless. If you are taking responsibilities of an animal, be committed with that. Help them, love them,take care of them and share this post. Thank you.

Advertisements
Philosophy

জীবনগড়ের গলি

একলা, বড়ো একলা রাস্তাটা। নিশ্চুপ, লাল আলো, আগন্তুকের উঁকিঝুঁকি। ‘একবার শুনবেন? প্লিজ একবার শুনুন!’ কারোর কোনও উত্তর নেই। মোহিনী লাল আলোর মেঘ, যেন মায়াজালে জড়িয়ে রেখেছে। এ পথ শেষ হওয়ার নয়। মেয়েটার পায়ের শব্দই যেন সহস্র সিংহের মতো আক্রমণ করছে তার মনকে। দু-একবার গুঞ্জন, দু-একবার উঁকিঝুঁকি, মাঝে-মধ্যে ছুটে চলেছে তিন-চার জন আগন্তুক।’শুনুন না! একটিবার শুনুন’। বধির নাকি!

এ রাস্তা ফুরাবার নয়। পেরিয়ে গেল দু-চারটে বাঁক। সামনে শুধুই বিস্তৃত, লালচে আলো মাখা, নদীর মতো চওড়া, ধূসর রাস্তা। আর দুপাশে কেবল দাঁত বেরকরা দৈত্য-দানবের মতো কংক্রিটের জঙ্গল। ঘন-ঘন শ্বাস পড়ছে মেয়েটার। দিকবিদিক জ্ঞানশুন্য, উদ্ভ্রান্তের মতো ছুটে চলেছে। দুপাশের ল্যাম্পপোস্টের মোহিনী লাল আলো, তাকে কেবল টেনে চলেছে সামনের দিকে। এ পথের শেষ কোথায়!

মেয়েটা আবার চেঁচিয়ে উঠলো, ‘শুনছেন, আমি হারিয়েগেছি! কেউ শুনুন না!’ হঠাৎ, আগন্তুকদের মাঝেই, এক পথিক ঘুরে দাঁড়ালেন, ফ্যাকাসে চেহারা, অভিব্যক্তিবিহীন, জীবনীশক্তিহীন, চোখ দুটো মুখমণ্ডলীর তুলনায় ঠিকরে বেড়িয়ে আসছে। মানুষ! না মানুষের মতো দেখতে!

-‘আমি রাস্তা হারিয়ে ফেলেছি, বলতে পারেন এটা কোথায়?’

-পথিকের উত্তর, ‘এটা জীবনগড়ের গলি’।

Flash Fiction, Philosophy, Short Story

আমার রবিঠাকুর

rabindranath-alongwith-elder-daughter-madhurilata-and-elder-son-rathindranath-300x300.gif

ঘরে ফিরে দেখি, সোফার উপরে বসে আছে রবিঠাকুরের বেশধারী এক ছদ্মবেশী। আমার তো দেখেই চক্ষুচরক গাছ! আজ বাড়িতে কেউউ নেই। অর্থাৎ বাড়িতে এখন আমি আর ছদ্মবেশী!

– কে আপনি! আমি কিন্তু চেঁচাব…                                                                                                           -‘আহা! দিঠি, শান্ত হও। ‘কে আপনি!’ আমায় চিনতে পারছ না!’

সেকি! লোকটা আমার নামও জানে! আপাদমস্তক আলখাল্লায় ঢাকা সেই গোঁফ, সেই দাঁড়ি। চোখ দুটো সপ্রতিভ। একে ভেকধারী বলি কি করে!

– না ! আমি চিনব কি করে! এই দিন দুপুরে রবিঠাকুরের মতো গোঁফ-দাঁড়ি লাগিয়ে, আলখাল্লা পরে মানুষের বাড়িতে ঢুকে বসে আছেন আপনি কিসের উদ্দেশ্যে!? আচ্ছা, সব দরজা জানলা তো বন্ধই আপনি ঢুকলেন কি করে!?                              -‘আমি যেখানে চাই সেখানেই যাই। বাধা কিসের!’                                                                                                  -বললেই হল! আপনি কি অ্যামিবা নাকি লাল পিঁপড়ে যে চাইলেই ফাঁক-ফোকর দিয়ে ঢুকে পড়বেন! বেড়িয়ে যান বলছি! বেড়িয়ে যান! আমি কিন্তু চেঁচামিচি করব। পুলিশ ডাকব।                                                                                     -‘হা! হা! হা!’                                                                                                                                                    – আপনি হাসছেন!                                                                                                                                            – ‘সবাই কি আর আমায় দেখতে পায়, দিঠি!’                                                                                                            – দেখতে পায় না মানে!

এবার উঠে গিয়ে বুকশেলফের কাছে গিয়ে বই দেখতে দেখতে বললেন—

‘হ্যাঁ… আমায় সকলে দেখতে পায় না। শুধু তারাই দেখতে পায় যারা আমার আত্মার সুর-তরঙ্গটাকে অনুভব করতে পারে।  তোমার খাটের উপর দেখলাম দুটো সমরেশের বই একটা তিলোত্তমার বই পড়ে আছে। এখন কে কেমন লেখে কখনও তো পড়িনি, জানি যদিও তুমি কাউকে তোমার বই পড়তে দাও না, তবু চাইছি দেবে পড়তে?’

আমি হতভম্ব হয়ে শুনছিলাম। এবার জোরে একটা চিৎকার আমার গলা থেকে বেড়িয়ে এলো।

– ও চৌধুরী কাকিমা দ্যাখো না আমাদের বাড়িতে….

-‘চিৎকার করে কোনও লাভ হবে কি! পাশের বাড়িতে তো মস্ত তালা ঝুলছে।’

আমি তাকিয়ে দেখলাম সত্যিই তাই। হঠাৎ ভয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লাম মেঝের উপর, হাউমাউ করে কাঁদতে-কাঁদতে বললাম আপনি কে আমি জানি না। কি উদ্দেশ্যে ঢুকেছেন আমি জানি না প্লিজ প্লিজ আপনি বেড়িয়ে যান।বিশ্বাস করুন আমার কাছে কটা দশ-কুড়ি টাকার নোট ছাড়া আর কিচ্ছু নেই।

-কাঁধ ধরে বলল ‘ওঠো ওঠো দিঠি। রোজরোজ আমার ছবির সাথে কথা বলো দিঠি। রোজ বলো আবার এসো রবিঠাকুর, বাংলা ভাষা যে বড়ো সংকটে। তাই তো এলাম। তোমার ডাকেই এসেছি। তুমি যখন বলছ তাহলে চলে যাচ্ছি। তুমি আমায় চিনতে পারছ না এটা খুব-ই দুঃখজনক ব্যাপার।’

আরে আমি যে রাতের বেলা রবিঠাকুরের ছবির সামনে বসে কথা বলি সেটা তো আমি আর আমার ঘরের জড়বস্তু গুলো ছাড়া আর কেউ জানে না।

-আপনি যে রবিঠাকুর অন্যকেউ নন তার প্রমাণ কি আছে?                                                                                    -‘তোমার প্রমাণ লাগবে দিঠি!’                                                                                                                             – তা তো লাগবেই একজন ব্যক্তি যিনি ৭৮ বছর আগে মারা গেছেন উনি কি করে ফিরে আসেন এইভাবে!                        -‘বেশ বলো কি প্রমাণ চাই!’                                                                                                                                -আমি গীতবিতান থেকে পেজনাম্বার বলব আর তাতে কি গান আছে সেটা আমায় গেয়ে শোনাতে হবে।                            -‘ বেশ। তবে সব তো মনে থাকে না। তবু বলো দেখি।’

হাতে গীতবিতান নিলাম, নিয়ে শুরু করলাম।                                                                                                    -৩০৫                                                                                                                                                           -‘হৃদয়ের   এ কূল,    ও কূল,    দু কূল ভেসে যায়,    হায় সজনি,                                                                                                                       উথলে নয়নবারি।’                                                                                                    -৬৫৬                                                                                                                                                          -‘পথহারা তুমি পথিক যেন গো সুখের কাননে,                                                                                                                 ওগো, যাও কোথা যাও।’                                                                                                                          -আচ্ছা আমায় বলুন তো আপনি ঢুকলেন কি করে?                                                                                                -‘আমি তো যেখানে খুশি যেতে পারি’ বলে পাঁচ-ছবার উধাও হয়ে, ঘরের বিভিন্ন জায়গায় প্রকট হয়ে নিজের ক্ষমতা দেখালেন।

আমি বুঝলাম সত্যি আমি ভাগ্যবতী সেই মহাপুরুষের দেখা পেয়েছি আমি। নারী হয়েও তাঁকে ষষ্ঠাঙ্গে প্রণাম করলাম।

– রবিঠাকুর তুমি…

-‘বলি একটা লিমিট আছে তো দিঠি! আমি অফিস থেকে ফিরে এলাম, তুমি এখনও ঘুমোচ্ছ?’

-আরে এখন তো বিকেল বেলা। আমি তবে এগুলো সব স্বপ্ন দেখলাম! ধুর! এতো ভালো স্বপ্ন কে দেখে! কেন দেখলাম এমন স্বপ্ন! দেখলাম যখন পুরো দেখলাম না কেন!

Love, Philosophy

অজানা বসন্ত

জানো আমি কাল সারারাত জেগে, কান পেতে শুনতে চেয়েছিলাম তারা খসার শব্দ।
আকাশের কোণা বেয়ে আদুরে জোছনাটা পৃথিবীকে কেমন জড়িয়ে রেখেছিল।
মাঝরাত্তিরের এই অন্যরকম ভালোবাসার মুখোমুখি হতে বড়ো ভালো লাগছিলো আমার।
কখনও ভেবে দেখিনি অন্তঃসত্ত্বা পৃথিবীর জঠোরেও বেড়ে উঠতে পারে অজানা বসন্ত।
জমকালো, রঙিন, দমবন্ধ বসন্তের রঙে আমায় রাঙিয়েছিলে কতবার।
মনে আছে, গুঞ্জা মালা পরিয়ে আমায় রাঙা করতে চেয়েছিলে তুমি।
অবশেষে সেই তুমি-ই বসন্তকে লালন করতে পারনি।
‘ভীষণ ক্লান্ত এ বসন্ত, রোজদিন পিষছে জাঁতাকলে।’
তবু ফিরে পেতে চেয়েছ বারবার তোমার বসন্তকে।
তোমার ফেরত চাওয়া আলোটুকু ফেরাতে পারলাম না,
তোমায় প্রাক্তণ করে, পৃথিবীর সেই অজানা বসন্তের প্রেমে পড়ব বলে।

Awareness

জাতীয় সঙ্গীত

-‘কাঁকুরগাছি যাবেন তো?’ অটোচালক মাথাটা ডান পাশে হেলাতেই অটোতে উঠে বসলাম। আমি বসেছি লাস্ট কর্নারে। অটো চলতে শুরু হতেই অন্য কর্নারে বসে থাকা এক ছোট্ট শিশু তার মা-য়ের কোলে বসে থেকে বাইরের চলন্ত দৃশ্য দেখতে দেখতে, আনমনে, বেশ করে গান ধরলো। কচি গলায়, আধো-আধো সুরে কি যে গাইছে প্রথমটায় বুঝতে পারিনি, হঠাৎ আবিষ্কার করলাম সে আনমনেই আমাদের জাতীয় সঙ্গীতটি আওড়াচ্ছে। ধীরে ধীরে, কচি গলায় তোলা ‘জন গণ মন’ ঠিক সুর থেকে তার নিজের মতো সুর নিতে শুরু করলো। কিছুক্ষণ সময় পেরোনোর পর সত্যি বলছি, কানে বেশ লাগছিলো। এবার সে এমন-ই বিকৃত করে গাইতে শুরু করলো, আমার পাশে এবং সামনে বসা অন্যান্য যাত্রীরাও দু-তিন বার পিছন ঘুরে, পাশ ফিরে দেখলো। মনের ভীতরটা খচখচ করছে, তবু, ‘সে শিশু’-এই কথাটা ভেবে বারবার ক্ষমা করে দিতে চেয়েছিল মনটা।

ইতিমধ্যে কাঠগোলা স্টপেজ এসেছে শিশু এবং তার মা নামলেন। ভাড়া দিলেন। অটো চালক ব্যালেন্সটা তাঁকে ফেরত দেওয়ার সময় হঠাৎ বলে উঠলেন, “দিদি জাতীয় সঙ্গীতটা পতাকার সামনে সদর্পে গাওয়ার জন্য। অটোর সিটে বসে হাওয়া খেতে-খেতে গাওয়ার গান এটা নয়। এখন থেকেই বাচ্চাকে শিক্ষা দিন, নইলে বাচ্চা জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা বুঝবে কি করে!” মহিলা হতভম্ব হয়ে অটোচালকের মুখ থেকে ছিটকে আসা শব্দ গুলো শুনে কিছু বলতে গিয়েছিলেন, সেই মুহুর্তে অটোচালক মহিলার কথা না শুনেই শাঁ করে অটোর স্পিড তুললেন। তারপর আমাদের, অর্থাৎ অন্যান্য যাত্রীদের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘বাচ্চারা তো বাচ্চাই হয় ওরা কি আর বোঝে… আজকের করা ছোট ভুলটা কালকে অনেক বড়ো ভুলের আকার নেয় তাই সেটা সুধরে দেওয়াটা আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।’

হতবাক হয়ে অটোতে বসেছিলাম সেইদিন। সামনে বসে থাকা ময়লাটে জামাকাপড় পড়া অতি সাধারণ এক অটোচালকের প্রতি কয়েকগুণ শ্রদ্ধা বেড়েছিল আমার। তাঁর পুঁথিগত শিক্ষার বিষয়ে জানিনা, কিন্তু জাতীয়তাবোধের দিক থেকে অটোতে বসা বাকি মানুষ গুলোর থেকে সে অনেক বেশি শিক্ষিত।

Ghost

সঙ্গে আমার ভুতো আছে ভয়টা আমার কি!

-জয় হনুমান জ্ঞান গুণ সাগর।
জয় কপীশ…
ধুর বাবা.. ভয়ের চোটে মন্ত্রটাও ভুলে যাচ্ছি… দিদিকে এতো করে বললাম মাঝরাতে দুজন মিলে বাথরুমে আসতে হয়!
কে শোনে কার কথা!
মামারবাড়ির বাথরুমটা আবার এতো দূরে তারপর টিনের দরজাটার ক্যাচক্যাচ শব্দটা শুনলে তো আত্মারাম খাঁচা ছাড়া হয়ে যায়!
এই এই এই… যাহ… আমি বাথরুমের দরজা বন্ধ করতেই আলোটা যেতে হলো!!

-ভঁয় পাঁস নাঁ… আঁমি তোঁর সঁঙ্গেই আঁছি!