Life, Philosophy

সময়ের বিড়ালছানা

এই নিস্তব্ধতাকে হৃদপদ্মে সযত্নে আঁকড়ে ধরে।
সময়ের বিড়ালছানার খেলা দেখি।
লেজ তুলে বেপরোয়া চিত্তে সে একা একা খেলে বেড়ায়। আমি দাঁড়িয়ে দেখি।
আর আমাকে দোলা দিয়ে যায় ছোটবেলার সেই পুরোনো নরম ঠান্ডা হাওয়া। যতবার দোলা দেয়, আমি ভাবি আমার শরীর বুঝি হাওয়ায় মিশে যাচ্ছে।
হাওয়ার মধ্যে সেই স্নিগ্ধতা, সেই ছোটবেলার মিঠে গন্ধ। সময়ের বিড়ালছানা খেলে চলে। আর আমি, সেই হাওয়ায় ভেসে ভেসে ছোটবেলায় ফিরতে চাই।

আমি ছোটবেলার গাছেদের সাথে কথা বলি,
গান শোনাই। ওরা আমার কথা শোনে,
গান শোনে আর সময়ের বিড়ালছানার সাথে তাল মিলিয়ে লম্বা হয়।

আমি ওদের মতো কখনো চাইনি সময়ের বিড়ালছানার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে।
তবু চলি, চলতে হয় তাই।

একদিন সেই গাছেরাও বুড়ো হবে।
আর আমি ঐ একইরকম ভাবে হাওয়ার মধ্যে
যৌবনের আতরঢালা সুগন্ধ খুঁজতে-খুঁজতে,
খুঁজতে-খুঁজতে সময়ের বিড়ালছানাকে কোলে তুলে,
বেরিয়ে পড়বো নতুন কোনো শৈশবের সন্ধানে।

Promoted Post

Sponsored Post Learn from the experts: Create a successful blog with our brand new courseThe WordPress.com Blog

WordPress.com is excited to announce our newest offering: a course just for beginning bloggers where you’ll learn everything you need to know about blogging from the most trusted experts in the industry. We have helped millions of blogs get up and running, we know what works, and we want you to to know everything we know. This course provides all the fundamental skills and inspiration you need to get your blog started, an interactive community forum, and content updated annually.

Bengali, Bengali Writer, Flash Fiction, Love, Mr.Sunil Gangopadhyay, Philosophy

২৩ শে অক্টোবর সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মৃত্যু দিবস উপলক্ষ্যে

কালো আকাশটার গা ঘেঁষে সূর্যটা উঠতে শুরু করল। তারা গুলো চুপি-চুপি জোনাকির ছদ্মবেশ ধরল আর চুপটি করে লুকিয়ে পড়ল গুহার মধ্যে। লম্বা-লম্বা দেবদারু গাছগুলোর মাথা-ঝাকড়া পাতা গুলোর ফাঁক দিয়ে সূর্যের সেই ‘প্রথম আলো’-টা ছড়িয়ে পড়ল পৃথিবীময়। পাখিদের ডাকের মাঝে শুধু ‘ঝর্ণার জলে’-র আওয়াজের তীব্রতাটাই একটু হারিয়ে গেল। জীবনের তেত্রিশটা বছর কাটিয়েছি এই ভেবে ভেবে যে, ‘কেউ কথা রাখেনি’। নাদের আলি কথা দিয়েছিল আমি বড়ো হলে সে আমাকে ‘তিন প্রহরের বিল’ দেখাবে। নাদের আলি! কোথায় সে! সে তো হাওয়ার সাথে মিলিয়ে গিয়েছে! আজ ‘নীরা’ অবশেষে তুমি এলে আমার সাথে, দুজনে একসাথে ‘তিন প্রহরের বিল’ দেখব বলে। সেই মধ্য রাত থেকে জেগে থাকার ছোট-বড়ো ক্লান্তি গুলো আজ তোমায় ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছে। কিরকম করে ঘুমোচ্ছ দেখ! ঠিক ছোট্ট শিশুটার মতো। যে দেবদারু গাছে ভর দিয়ে তুমি ঘুমোচ্ছ, তার পাতার ফাঁক দিয়ে একদল সোনালি রোদ তোমার শরীর বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে। তোমার মুখ, ঠোঁট, গাল, এলো চুল সবকিছু ধুয়ে দিচ্ছে সোনালি আলোটা। আর আমি, মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুধু চেয়ে আছি তোমার দিকে। মাঝে-মাঝে মনে হচ্ছে সোনালি আলো না, ‘সোনালি দুঃখ’ গড়িয়ে পড়ছে তোমার গাল, ঠোঁট আর চিবুক গড়িয়ে। ‘অর্ধেক জীবন’ এই সোনালি দুঃখকেই পরম সুখ মনে করে মখমলের চাদরের মতো জড়িয়ে ফেলতে চেয়েছিলাম নিজের সর্বাঙ্গে। ছুঁটে ফিরেছি বারবার, দুঃখ নামের নীল বিষটাকে গলায় ধারণ করতে শিখিয়েছিলেন মহেশ্বর। তাইতো নিজের  পৃথিবী খুঁজে ১০৮ টা নীল পদ্ম জড়ো করলে যে নীল রঙ খুঁজে পাওয়া যায় তার তুলনায় আমার কণ্ঠের গরলের নীল রঙ ছিল গাঢ়। তুমি দেখতে পাওনি নীরা.. কেবল চিঠির মধ্যে খুঁজতে চেয়েছ ভুল করে লেখা ভুল গুলো। ‘মহারাজ, আমি তোমার…’ নাহঃ সেই পুরনো বালক ভৃত্যটা আর নই। গত সাতবছর আগেই ইস্তফা দিয়েছি তোমার কাজে। মহারাজ নীরাকে আজ যেতে দাও। ঘুমোতে দাও দেবদারু কোলে মাথা রেখে। আট বছর অপেক্ষায় ছিলাম এই তোমার এলাকায়। আজ নীরা আমার সাথে যাবে। ঘুম ভাঙলে, ঘুমোলে ওকে কেমন লাগে আজ সে সচক্ষে দেখবে।

তারপর…

‘ মহারাজ, কাঁদে না ছিঃ !’

Dreams, Life, Nature, Philosophy

কান পেতে শুনতে চেয়েছি শব্দগুচ্ছ…

চেনা পথের খোঁজ করতে করতে ফেলে এসেছি আমি অনেকটা পথ।
রহস্যময়ী শহরের চোখে চোখ রেখে পড়তে শিখেছি তার অন্তরের ভাষা, খিলখিলিয়ে বয়ে চলা সরু ফিতের মতো নদীর সাথে সুর মিলিয়ে পার করেছি আমি কয়েকটা জন্ম, সহ্য করেছি দুরন্ত বালুরাশিতে বইতে থাকা নিরক্ষর বুনো হাওয়ার দাপট, দেখেছি মেরুজ্যোতির আলো পর্যন্ত।
তারপর পৃথিবীটাকে মুঠোয় ভরে,
ছায়াপথে উবু হয়ে বসে,
কান পেতে আমি শুনতে চেয়েছি পৃথিবীর অন্তরে বাজতে থাকা অনন্ত শব্দগুচ্ছ।

Nature

পাথরকুচি

শহর এক ধূসর কিশলয়। রঞ্জকবিহীন।
তবু এখানে পাথরকুচির মতো মানিয়ে চলে দমবন্ধ সজীবতা।
রাস্তা ছড়িয়ে থাকে শহরের শিরায় শিরায়।

পাথরকুচি ভুলে যায় পুরোনো ধারকের কথা।
তাই ধূসর শহরে ঘুমিয়ে পড়ে কয়েকটা ইতিহাস।
শহর ভুলে গেছে সবুজ রঙের মাহাত্ম্য।
তবু পাথরকুচি পাতার খাঁজে জমে থাকে সুক্ষ্মপ্রাণ, সবুজ বিতরণের অপেক্ষায়।

Ghost, Life, Philosophy

কবর-তলার প্রলাপ

সুবাস ছড়ায় আমার মৃত রজনীগন্ধার মালা,
মনে করি, আমার কবরের ঘুম বুঝি এবার সাঙ্গ হবার পালা।
‘এবার জাতিস্মর হবো!’
আমার এই শুকনো কঙ্কালের কথা কে-ই বা শোনে!
কেবল শুকনো বুকের পিঞ্জর কেঁদে মরে কোনো প্রাণপাখির টানে!

আসুক না কোনো আধুনিক এক সত্ত্বা।
এই শুষ্ক হাড়ের উপর আবার কাশফুলের মতো প্রস্ফুটিত হোক কোমল মাংসল পেশী।
তার ওপর কাঁচা সোনার রঙের চামড়ার বিন্যাস হোক।
বিধাতা এক তুলির টানে বর্ণনা করুক লোচনদ্বয়।
থাকুক সোনালী ঢেউ খেলানো দীর্ঘ চিকুর।
সেই ঢেউয়ের গতিতে ভেসে যাক কয়েকটা মন।
নাই বা হোলাম পঞ্চবটির ভূমিসূতা।
তাতে কি-ই বা এলো গেলো!

দিন কাটে ধোঁয়াটে আলোর মেলায়।
পার্থক্য বুঝি না আমি মানুষ আর না-মানুষের!
মৃত কঙ্কাল আমি ভেসে ফিরি শরীর গড়ার স্বপ্ন নিয়ে।
আর কবর-তলার এই প্রলাপ চাপা পড়ে থাকে কবরের নিচেই।

Review

‘শালিমারে সংঘাত’

বিংশ শতকের অন্যতম বিখ্যাত লেখক, কবি হলেন শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানত তাঁর লেখা কবিতার সাথে সকলের বেশিরভাগ পরিচয়। ‘শালিমারে সংঘাত একটি বিলিতি বোস থ্রিলার’, শ্রীজাত-র ২০১৭-এ প্রকাশ পাওয়া একটি উপন্যাস। উপন্যাস হিসেবে একটি আধুনিক এবং সম্পূর্ণ অন্যস্বাদের একটি উপন্যাস।

উপন্যাসের কেন্দ্রচরিত্র হলেন আন্ডার কভার এজেন্ট বিলিতি বোস। রাশিয়ান জঙ্গি হানার বিরুদ্ধে লড়ার জন্য টপ প্রাইভেট এজেন্সি তাকে নিয়োগ করে। বিলিতি বোস, তার এসিস্টেন্ট টফি দে সহ বিরাট টিম নিয়ে সেই মিশনে যান এবং বলা চলে উপন্যাস শেষ হয় উইথ হ্যাপি ফেসেস। না যত সহজে দু-লাইনে বলা হলো আদতে উপন্যাস তত ছোট নয়। একশো আটান্ন পৃষ্ঠার উপন্যাসে তথাকথিত ‘রহস্য-রোমাঞ্চ’- উপন্যাসের উপাদান ততটা নেই যতটা আরও অন্য উপন্যাসে পাওয়া যায়। রসসিক্ত ঘটনাবলীর সমন্বয় এই উপন্যাস এক্কেবারে অন্য রূপ নিয়েছে।

‘থ্রিলার’ শব্দটার মধ্যেই যেন কেমন একটা গাম্ভীর্য লুকিয়ে আছে। সেই থ্রিলার গল্পকেই কল্পনাশক্তি ও হাস্যরসে ডুবিয়ে পরিবেশন করেছেন লেখক। লেখার পদে-পদে ফুটে উঠেছে লেখকের নিজস্বতা।অন্য সকল উপন্যাসের থেকে এই উপন্যাসটি আলাদা করা যায় তাঁর ভাষা ও পরিবেশনের মাধ্যমে।

উপন্যাসের ভিতরে রয়েছে অনেক অনেক ভিন্ন চরিত্র যারা সকলেই রায়পাড়ার বাসিন্দা। আর রয়েছে তাদের জীবনের বিরল ঘটনা গুলি! প্রথমের ঘটনাগুলি পাঠকের মনকে তৃপ্তি ও আনন্দের সঞ্চার করলেও উপন্যাসের মাঝপথে গিয়ে এতো গুলো ক্যারেক্টারের অলিগলিতে হারিয়ে যেতে হতেই পারে পাঠককে। তবু, প্রেম, অদ্ভুত ক্যারেক্টারদের অদ্ভুত ফিলোসফি নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে করতে দর্শকের মনোগ্রাহী হতে বাধ্য এই উপন্যাস।

Awareness, Hathras, Nature, Philosophy, regret, Social Issues, Woman

চোখ

দেহের কয়েক কিলোমিটার উপরে তারা ভরা আকাশ।
ঠিক যেন পৃথিবী ঘন,নীল চোখ মেলে তাকিয়ে আছে।
পড়ে রয়েছে নিথর,শান্ত দেহ।
নিথর দেহের চোখ তাকিয়ে আছে পৃথিবীর তারাভরা চোখের দিকে। সরাসরি।
দুই দৃষ্টির এমন যোগাযোগ কখনও কি হয়েছে আগে?

নিথর চোখে প্রতিফলিত হচ্ছে গাঢ়,নীল,তারা ভরা পৃথিবীর চোখ।

হঠাৎ গনগনে একটা হলকা ছুটে এলো, মুহূর্তে গ্রাস করে ফেললো দেহটাকে, সঙ্গে সঙ্গে ঝলসে গেলো চোখ দুটোও।

শুধু পৃথিবী,
একা,
নিরীহ,
অসহায় নারীর মতো চেয়ে রইলো,
তাঁর ঐ ঘন,নীল,তারায় ভরা চোখ মেলে।

Dreams, Nature, Nebula, Philosophy

নীহারিকার হাতছানি

স্বপ্নে, আলেয়ার মতো হাতছানি দেয় নীহারিকা।
শ্রীজাত বলেন, ‘নক্ষত্রকে ধাওয়া করা কতক্ষণই বা সম্ভব?’
আর নীহারিকা! সে তো আন্তঃনাক্ষত্রিক মেঘ।
সে শুধু হাতছানি-ই দিতে পারে!
তাতে আমি যেতে মোটেই রাজি নই!
হোক না, দু-একটা স্বপ্নের ভরাডুবি!
হাতঘড়ি চলছে নিজের মতো।
তাকে ধাওয়া করে, ওরকম স্বপ্ন পরে না হয় দেখবো আবার।
এখন ক্ষিতি দেহের সব চেয়ে উঁচু পাহাড়চূড়াটায় বসে,
তারায়-তারায় জুড়ে-জুড়ে আঁকবো ছবি, আকাশ ক্যানভাসে।
সেই ছবিতেই নয় রঙ ঢালবে নীহারিকা।
আর গোটা আকাশটা পরিণত হবে একটা জলসাঘরে।

Awareness, Flash Fiction, Life, Short Story, Social Issues, Way of Life, Women

সেই গলিটায়, শুধু লাল আলো খেলা করে

-বাবা, ঐ গলিটার ভিতর দিয়ে কোথায় যাওয়া যায়?
-ঐ গলিটা কোনো পথ নয়। ঐ গলিটার ভিতরে গেলে মানুষ হারিয়ে যায়।
-কিন্তু…
-কিন্তু নয় তাড়াতাড়ি পা চালাও, বাড়ি পৌঁছাতে হবে।

লাল গলিটা। লাল রঙ আমাদের খুব টানে। খুব। তাই না!

বাবার সঙ্গে সেই কথা গুলোর পর দশটা বছর কেটে গেছে… এখন দশম শ্রেণী। সেদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার সময় একটা ঝাঁপিয়ে পড়া অন্ধকার, সব যেন শূন্য করে দিলো।
যখন জ্ঞান এলো, চোখে পড়লো একটা অদ্ভুত রঙচঙে ঘর তাতে সেই লাল আলো… কি মায়াবি… আর কতো গুলো রঙ মাখা মুখোশ… না মুখ! বোঝা যায় না ভালো করে! সব ঝাপসা। সবাই ওখানে মহিলা, এটা বোঝা যায়।
‘কে তোমরা? এটা কোন জায়গা?’
-‘মেলা ফ্যাচ-ফ্যাচ না করে তৈরি হ, লোক পাটাচ্ছি’
মুখে গোজা একদলা পান, বাঁকা ঠোঁটটার কোণা দিয়ে ছিটকে আসছে কথা গুলো, অচেনা মুখ,এরকম অভিব্যক্তির সাথে সে পরিচিত নয়।মাথাটা এখনো ঝিমঝিম করছে। অন্য আরেকটা কণ্ঠস্বর পরিবেশের ছন্দপতন করলো।

-‘এই, তোরা ঘরটা খালি করতো, নতুন পাখিকে দেকি একবার বালোকরে।’ কথা গুলো যার থেকে এলো সে হলুদ শাড়ি পড়েছে। মাঝবয়েসী বাকিদের তুলনায় বড়ো। মুখ গুলো এখনও কেমন ঝাপসা লাগছে। তার কথায় সবাই বেরিয়ে গেলো।
দরজা বন্ধ হলো। এখন ঘরে শুধু হলুদ শাড়ি পড়া মহিলা।

-‘পালিয়ে যা! এক্কুনি পালা! বাজার নষ্ট করতে এসেছিস না!’ দাঁতে দাঁত চেপে রেগে রেগে খুব চাপা স্বরে বললো। একটু থেমে, ‘বয়েস কতো?’
-‘ষোলো। আমি বাড়ি যাবো! আমায় বাড়ি নিয়ে চলো!’
বিরক্ত হয়ে বললো, ‘উঃ! এপথে এচিলিস কেন!’ আবার নিচু গলায় বলে উঠলো,’শোন, যা বলছি তাই কর…’

ঘরের আলমারি থেকে বেরহলো হরেক রঙের শাড়ি, সব রঙের উপর একটা লালচে আভা পড়েছে, তাই হারিয়ে গেছে আসল রঙ। গিঁট বেঁধে বেঁধে জানলার শিকের সাথে বাঁধলো। নিজে বেরিয়ে গিয়ে দাঁড়ালো সেই জানলার নিচে, পিছনের রাস্তায়, মেয়েটা শাড়ি বেয়ে নেমে গেলো।

মহিলা একটা গলি দিয়ে বের করলো মেয়েটাকে, ছুড়ে ফেলে দিলো ঝকঝকে একটা রাস্তায়। সেই রাস্তাটা। সাদা ল্যাম্পপোস্টের আলোয় ঝলমল করছে পথঘাট। চেনা রাস্তা। মেয়েটা পিছন ফিরে একবার তাকালো যে গলি দিয়ে তাকে হলুদ শাড়ি পরা নারী বের করে দিয়েছে সেই গলিটার দিকে। গলিটা সেই লাল আলোর রাংতায় মোড়া। একই ভাবে মায়াজাল বিস্তার করছে। তাকে বের করে দিয়ে হলুদ শাড়ির নারী মূর্তি ফিরে যাচ্ছে সেই লাল গলির ভিতরে। মায়া গলি। মেয়েটা দেখলো, নারীর হলুদ শাড়ির আঁচল ক্রমশ মিলিয়ে ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে লাল আলোর ভিতর। লাল আলোটা যেন গিলতে পারে অন্য রঙকে, এমনই মায়া তার।

সেই লাল আলো, যার ভিতর হারিয়ে যায় অনেক রঙ, অনেক মানুষ আর অনেক অনেক রঙিন শাড়ি।

Life, Philosophy, Way, Way of Life

আমার গন্তব্য অনেক দূরে!

মাঝখান দিয়ে নদীর মতো বয়ে গেছে কালো পিচের স্রোত,
শহুরে লোক যেটাকে বলবে, একটা রাস্তা।
আমি সেই কালো পিচের রাস্তার মাঝখান দিয়ে হেঁটে যাই টলমল পায়ে। হেঁটে যেতে যেতে আছাড় খাই বাতাসের গায়ে। এই রাস্তা কি গিয়ে উঠেছে ছায়াপথে? আমার গন্তব্য কিন্তু অনেক দূরে!
‘এই রিকশা রোককে, যাবে নাকি ছায়াপথ?!’
ছায়াপথ ধরে হেঁটে যেতে যেতে, আমি পৌঁছাব অন্য পৃথিবীর অন্য নগরে। এই শহরটা ভরে উঠেছে আলোহীন জোনাকি দিয়ে। আলোহীন জোনাকি আমায় তাড়া করে বারবার।
তাই আমার গন্তব্য অনেক দূরে।
ক্ষমতা নেই? যাও হুস! ধুস এদের মান, হুশ কিসসু নেই! এরা চেনে না ছায়াপথের রাস্তা। শুধু কালো পিচের স্রোতকে রাস্তা বলে। আমার গন্তব্য অনেএএএক দূরে! আমি তবু পৌঁছাব সেই নগরীতেই এই টলমল পায়ে হেঁটে। এরা পৌঁছাবে না কোনোদিনও। আলোহীন জোনাকির তাড়া খেয়ে আর কালো পিচের স্রোতকে রাস্তা বলে কাটাবে সারাজীবন।