Piece of my Heart

মিন্টুরামা

আজ দশটা দিন কেটে গেল, দিব্যি চলে গেলি একবারও মনে পড়ছে না বল, আমাদের কথা! শাস্ত্রমতে, মৃত্যু নাকি উত্তরণ? হয়তো আবার দেখা হবে, একটা নতুন জামা পাবি যে, তাই তোকে আর চিনতে পারবো না, আর তুইও আমাকে আর চিনতে পারবি না। মুখে, ‘আনন্দে আছি’ এমন একটা মুখোশ লাগিয়ে সেই দিন থেকে ঘুরে বেড়াচ্ছি। আজ অবধি কাউকে বুঝিয়ে উঠতে পারিনি,’মানুষ নয়’ এমন প্রাণীদের সাথে আসলে সম্পর্কটা কেমন হয়, ভাই, বোন, সন্তান নাকি কিরকম, তাই, এই কথা কাউকে জানাতে ইচ্ছা হয়নি! এই দশ টা দিনের সারাদিন চব্বিশ ঘন্টা, প্রত্যেক মিনিট-সেকেন্ডে মিস করছি অনবরত, আর বিষণ্ণতা আমাকে গিলে নিচ্ছে প্রতিনিয়ত… আমি হয়তো আবার ভালো থাকতে শিখে যাবো, তুই ভালো থাকিস, আবার নিশ্চই দেখা হবে, প্রার্থনা করি ঈশ্বর তোকে এবার মানুষ রূপ দিন।❤

Review

‘দ্বিতীয় পুরুষ’ (‘Dwitiyo Purush’)

২৩ শে জানুয়ারি মুক্তি পেয়েছে, সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের, ‘দ্বিতীয় পুরুষ’। ‘বাইশে শ্রাবণ’,’চতুষ্কোণ’,’ভিঞ্চি দা’-র মতো থ্রিলার সিনেমা বানানোর পর, ‘দ্বিতীয় পুরুষ’,’বাইশে শ্রাবণ’-এর আদর্শ দ্বিতীয় পর্ব হতে পারলো কিনা, সে বিষয়ে ইতিমধ্যেই ইতিবাচক ও নেতিবাচক মন্তব্য পড়েছে।

সিনেমার নামকরণের দিক থেকে, ‘দ্বিতীয় পুরুষ’ নামটি অবশ্যই যথোপযুক্ত। একদিক থেকে বলতে গেলে,অত্যন্ত তীক্ষ্ণ মস্তিষ্কের খুনি হিসাবে,’বাইশে শ্রাবণ’-এর প্রবীর রায়চৌধুরী যদি সেই প্রথম ব্যক্তি হন তবে এই গল্পে বেপরোয়া খুনি খোকা, ‘দ্বিতীয় পুরুষ’-ই বটে। আবার, দ্বিতীয় দিক থেকে, পঁচিশ বছর আগেকার কোনো হলুদ পাতার হিসাব মেলাতেই চরিত্রগুলির জীবনে দ্বিতীয় পুরুষের উত্থান।

চিত্রনাট্যের দিক থেকে, কথা নিয়ে বরাবরই ভালোই খেলেন সৃজিত মুখার্জী। দর্শক সমেত, জুনিয়র পুলিশ অফিসার রজত (গৌরব চক্রবর্তী)-কে, অভিজ্ঞ পুলিশ অফিসার, অভিজিৎ পাকরাশী(পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়), আসলে সিরিয়াল কিলার কাকে বলে, একজন পুলিশ অফিসারের কিসের কিসের সম্বন্ধে জ্ঞান থাকা আবশ্যক, সেই সম্পর্কে ধারণা দিলেও, পরপর ঘটে যাওয়া খুনের মীমাংসা কোনো ভাবেই করে উঠতে পারে না তাদের পুলিশ ডিপার্টমেন্ট।

সিনেমায়, ঋতব্রত মুখোপাধ্যায় ও অনির্বাণ ভট্টাচার্য, যে যার চরিত্রে অতুলনীয়। দর্শক অন্যবারের তুলনায় দুজনকেই দেখবেন সম্পূর্ণ অন্যরকমের চরিত্রে। সিনেমা রিলিজের আগে থেকেই ‘খোকা’ চরিত্রটি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেছে। একটু অন্যরকম আঁচড়ে ‘খোকা’ চরিত্রটি জেগে উঠেছে। দর্শকদের কাছে খোকা, হাড়হিম করা ক্যারেক্টরই বটে, খুন করে পরোয়াহীন ভঙ্গিতে কপালে সই করে দেয়। খুন করে দিব্যি শেষ করতে পারে ‘একপ্লেট চিকেন চাউমিন আর চিলিফিশ’। আবার বৃষ্টিতে ভেজা কুকুরছানা দেখলে কোলেও তুলে নেয় সে।

‘বাইশে শ্রাবণ’ থেকে অভিজিৎ পাকরাশী (পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়), অমৃতা (রাইমা সেন)-র জীবনের গল্প এগিয়েছে। সিনেমায় দেখানো হয়েছে, তাদের দৈনন্দিন বৈবাহিক সম্পর্কের গরীবিয়ানায়, ‘ডাল ভাত’-এর গল্প। ঠিক ‘বিরিয়ানি’র মতোই স্পেশাল, স্পেশাল-আপিয়ারেন্সে দেখা গিয়েছে, আবীর চট্টোপাধ্যায়কে, সূর্য সিনহার চরিত্রে। আবার, রহস্যের ডালপালা বিন্যাস বুঝতে বুঝতে আলগা হয় অভিজিৎ ও অমৃতার বৈবাহিক জীবনের সমস্যার জট। অনুপম রায়ের ‘যে কটা দিন’ গানটির পুরোনো স্পর্শ, দর্শকের মন ভিজিয়েছে।

সিনেমায়, গৌরব-ঋদ্ধিমা অভিনীত চরিত্র দুটির প্রেমটা ছোট ও পরিমিত হলেও রজতের (গৌরব)-র শোকে তার গার্লফ্রেন্ডের (ঋদ্ধিমা) মাত্রাতিরিক্ত অট্টহাসি, বড়োই অতিরঞ্জিত করেছে।

সারা সিনেমার ছোট-বড়ো ফাঁক গুলো এড়িয়ে গেলেও সবশেষের, বড়ো চমকের মধ্যে লুকিয়ে আছে কিছু প্রশ্নচিহ্ন। তবু, সিনেমাটোগ্রাফি, স্থান নির্বাচন, প্রতি অভিনেতার অভিনয়, এডিটিং, সাউন্ড স্কোর, ডায়ালগ, গান এসব দিক থেকে অবশ্যই এগিয়ে আছে ‘দ্বিতীয় পুরুষ’। কিছু খটকা,কিছু প্রেম, রহস্যের ভাজে থ্রিলার, ভালো-মন্দ মিলিয়ে খোকা এগিয়ে চলেছে। আরও এগিয়ে যাক।

Flash Fiction, Philosophy, Short Story

ভাষা ভাসাই পাহাড়ী অঞ্চলে

শিশু রোদ হেঁটে যায় বারবার।
নিরক্ষর হওয়া খেলে যায় দুরন্ত গতিতে।
তবু সে পাহাড়ের ঘুম ভাঙে না।
কেবলই পাতলা-তীক্ষ্ণ শব্দবাণ ছুড়ে চলি আমি।
পাহাড় শুধুই ফেরত পাঠায়
একগুচ্ছ মৃত অনুরণন।
কারণ,
পাহাড়ের হৃদয়ে লেগে আছে গাঢ় বুনো গন্ধ।
আর আমি?
আমি তো শুধুই শহুরে উপন্যাসের এক চরিত্র।

Social Issues

এক টুকরো আলো

এক টুকরো আলো, কুড়িয়ে পেলাম, ল্যাম্প পোস্টের তলা থেকে।
তোমরা নাকি আলোকে কাচ বন্দী করো?
শাসিয়ে রাখো উত্তপ্ত ফিলামেন্টের আগায়?
অন্ধকারে তলিয়ে গিয়ে, ঝিঁঝির শব্দ যে দিকে গেছে সেই দিকে যাও জোনাকি ধরতে?
তবেই শোনো,
এই তো সেদিন, হাঁটছি এক অতীতের রাস্তা দিয়ে।
অন্ধকারে ভাসতে ভাসতে চলেছি আমি।
চোখ সয়েছে কিছুটা। হঠাৎ একটা মানুষ, মাথাটা বীভৎস ভাবে ফেটে গিয়েছে, পরনের মলিনচাদর, পুরোনো রক্তে খয়েরী হয়ে গিয়েছে। মাথা থেকে রক্ত কিন্তু ঝরছে!
আমি ব্যস্ত হয়ে জিগ্যেস করলাম,’কে আপনি, কি হয়েছে আপনার?’
উত্তর এলো,’অবহেলায়, আলো, ধুলোয় লুটোপুটি খাচ্ছে, সামলাও তাকে! সাবধান হও! তোমরা তো যুব সমাজ, নিজের দায়িত্ব পালন করো! অশিক্ষা পৃথিবীকে গ্রাস করলে, আলো বাঁচাবে কি করে!’
আমি অবাক হয়ে বললাম,’আপনার মাথায়…’
-‘এই রক্তক্ষরণ সেই দিন বন্ধ হবে, যে দিন যুব সমাজ অশিক্ষার সঙ্গে লড়াই করে জিতবে, আবার আলোয় সেজে উঠবে পৃথিবী, যাও এগিয়ে যাও, হাতে যে সময় নেই বেশি, বাঁচাও আলোকে’ বলতে বলতে হেঁটে চলে গেলেন ব্যক্তি।
আমি হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম কিছুক্ষণ, তারপর আবার হাঁটা। হঠাৎ একটা আবছা আলো। একটা ল্যাম্পপোস্ট! দৌড়ে গেলাম, কুড়িয়ে পেলাম এক টুকরো আলো।
আবার, ফিরে এলাম বর্তমানে, আলো, তখন রূপ পাল্টে একটা গোলাপি বইয়ের রূপ নিয়েছে, উপরে জ্বলজ্বল করছে একটা নাম, ‘বর্ণপরিচয়’।

'সাধারণ মেয়ে', 15th August, Independence Day, রবি ঠাকুর, স্বতান্ত্রিকতা, ২২ শে শ্রাবণ, Independence, Independent Woman, Philosophy, Rabindranath Tagore

২২ শে শ্রাবণে অন্য অনেক সাধারণ মেয়ের গল্প

সবসময় শুধু মালতিরাই সাধারণ মেয়ে হয়নি…!
কারণ, অসাধারণত্ব লুকিয়ে রাখার ক্ষমতা রাখে তারা।
শুধুমাত্র অতিসাধারণ পুরুষ, নরেশদের জিতিয়ে দেবে বলে।
মালতিরা বিকিয়ে যায় না মরীচিকার দামে!
কারণ তারাই অসামন্যা নারী।
কণ্ঠে গরল চেপে তারা-ই শুধু সমাজে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে অদ্রিজার মতো।

Flash Fiction, Love, Philosophy, regret

চিঠিটা, অলিখিত

যেদিন কল্পনা আর ইচ্ছে গুলো
সংকুচিত হতে হতে জমাট বেঁধে যাবে,
সেইদিন আমিও হারিয়ে যাব
অজানা কোনো কুহকের আড়ালে।
পড়ে থাকবে,
এক পশলা বৃষ্টি,
এক ঝাঁক জোনাকি,
আর তোমার আর্তনাদ।
তারপর?
তারপর, অনেক গুলো মৃত্যু পেরোলে,
মানুষ হয়ে দেখা করবো তোমার সাথে।
আমার জুঁইফুলের রুমালটাকে আঁকড়ে ধরে,
কোনো বেনামী বিকেলে, অপেক্ষা করো উনিশ বা কুড়ির চৌকাঠে।

Awareness

পুষুন স্ট্রিট ডগসদেরও

WhatsApp Image 2019-05-11 at 22.30.27 (1)

 

নাহ! কোন ব্রিড ডগ নয়। একদম খাঁটি স্ট্রিট ডগ। সেইদিন কলেজ প্রোজেক্ট-এর সূত্রে যখন ডগ লাভার্সদের সাক্ষাৎকার নিতে বেরিয়েছি, ফুলবাগান থানার কাছে, পথ চলতি একজন বললেন,’ থানার ভিতরে যাও, একটা পোষা স্ট্রিট ডগ আছে।’ থানার ভিতরে যাব! মনটা কেমন যেন কিন্তু-কিন্তু করছিল। তবু একবার উঁকি মেরে দেখি, এক তাগড়াই চেহারার কালু কুতু বসে আছে, জুলু-জুলু চোখে আমাদের মিটিমিটি দেখছে। ছুটে চলে গেলাম। যথারীতি আমার হাতটা শুঁকেই একলাফে কাঁধে উঠে দাঁড়ালো। যাই হোক লম্ফঝম্পের পালা শেষই হচ্ছিল না। বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা এক-দুজন পুলিশকাকু বললেন ‘ওর নাম কাটাপ্পা।’ শুনে বেশ লাগলো। ভাবলাম কাটাপ্পার মালিকের একটা ছোট করে সাক্ষাৎকার নিলেই হয়। কথা বলে জানতে পারলাম কাটাপ্পাকে থানার বড়োবাবু পুষেছেন। অন্যেরা আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন,’ ভিতরে যাও, বড়োবাবু খুব ভালো।’ সিনেমা ছাড়া থানার ভিতর কেমন দেখতে হয় কোনদিন দেখিনি! আমি আর বর্ষা একবার মুখ চাওয়া-চাওই করলাম। তারপর আমি অকপটে বললাম,’আমাদের দুজনকে একটু ভিতরে নিয়ে যাবেন?’

ফুলবাগান থানার অফিসার-ইনচার্জ, পিয়ূষ কুণ্ডুর সাথে বেশ কিছুক্ষণ কথা হল। আমরা ইন্টারভিউও নিলাম। কথা বলে জানতে পারলাম উনিও একজন ডগ লাভার। উনি যেই থানাতেই কর্মরত থাকেন, সেখানেই একটি করে স্ট্রিট ডগ রাখেন। স্যার আগে নারকেলডাঙ্গা থানায় কর্মরত ছিলেন, সেখানে ‘চুলবুল’ নামে তাঁর এক স্ট্রিট ডগ ছিল। তিনি বললেন, ‘ওখানে গিয়ে চুলবুলের খোঁজ করলেই ওকে দেখতে পাবে।’ সিনেমার বিশেষ চরিত্র গুলোর নামে তিনি তাঁর পোষ্যদের নাম দেন।

সাক্ষাৎকারে, একটা প্রশ্ন করেছিলাম, ‘সাধারণত পুলিশদের ব্রিড ডগস-ই থাকে। সেক্ষেত্রে আপনি স্ট্রিট ডগ রেখেছেন, এর কি কোন আলাদা কারণ আছে?’

উনি উত্তর দিলেন,’সকলেরই একটা ভুল ধারণা কাজ করে।আমার মতে, ব্রিড ডগসদের থেকে স্ট্রিট ডগসদের ক্যাপাসিটি অনেক বেশি। এদের অনেক বেশি স্ট্রাগল করতে হয়। কোন জিনিস-ই এদের সহজে মেলে না। তাই আমার মনে হয়, যে কেয়ার ব্রিড ডগসদের সবাই দেয়, তার  ১৫%-২০% যদি একটা স্ট্রিট ডগকে দেওয়া যায় তাহলে সে যথেষ্ট হৃষ্টপুষ্ট, তেজি ও অ্যাক্টিভ থাকবে। আমার কুকুরকে দেখেছ? গায়ে হাত দিয়ে দেখবে, চকচক করছে। তাই বলে আমি কোন আর্গুমেন্টে যাচ্ছি না। যদি ব্রিড ডগদের মতো স্ট্রিট ডগদের রাখা যায় বা কেয়ার করা যায়, ওরা কোন অংশে কম যাবে না।’

আমি একজন পশুপ্রেমী হিসাবে বলছি, প্রথমত, প্লিজ স্ট্রিট ডগসদের দায়িত্ব নিন। ওরা অনেক বেশি অসহায়। দ্বিতীয়ত, যে প্রাণীর-ই দায়িত্ব নিয়েছেন, বা নেবেন, হঠাৎ করে কখনও ওদের রাস্তায়, বা অন্য কোথায়ও অসহায় অবস্থায় ছেড়ে দিয়ে আসবেন না এটা আমার আন্তরিক আবেদন। একটি কুকুর বা বিড়াল যখন আপনার বাড়িতে থাকে তখন সে আপনার পরিবারটাকেই তার পরিবার মনে করে। তাই মানুষ হওয়ার দায়িত্বে, ওদেরকে শেষ দিন পর্যন্ত সাহায্য করা ও পাশে থাকা আপনার এবং আপনাদেরই কর্তব্য।

Please adopt street dogs. They are helpless. If you are taking responsibilities of an animal, be committed with that. Help them, love them,take care of them and share this post. Thank you.